সুলতান সুলেয়মান আল-কানুনি’র শাসনামল

১৪শ শতকের শুরুর দিকে যখন উল্কার গতিতে ওসমানীদের উত্থান শুরু হয়েছিল তখন তাঁরা ছিল মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্তে ছোট একদল যোদ্ধা। ওসমান গাজীর অধীনে সাদামাটা নিরহঙ্কার এক সূচনা হয়েছিল ওসমানী সাম্রাজ্যের, আর বিস্তৃতি লাভ করেছিল ইউরোপ ও এশিয়ার সীমান্তলগ্ন অঞ্চলজুড়ে। ওসমান গাজীর নামেই সাম্রাজ্যের নাম হয় ওসমানী সাম্রাজ্য। সাবেক বাইজেন্টাইন রোমান সাম্রাজ্য এবং সেলজুক তুর্কি সাম্রাজ্যের অধীনস্ত অঞ্চলগুলোতে ওসমানীরা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনে, আর এর মাধ্যমে খ্রিস্টান এবং মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠা করে। সুলতান প্রথম বায়েজিদ (বায়েজিদ য়িলদিরিম, শাসনকালঃ ১৩৮৯-১৪০৩), দ্বিতীয় মুহাম্মাদ (ফাতিহ্‌ সুলতান মুহাম্মাদ, শাঃ ১৪৫১-১৪৮১), প্রথম সেলিম (ইয়াভুজ সুলতান সেলিম, শাঃ ১৫১২-১৫২০) এর অধীনে ওসমানী সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে এবং হয়ে উঠে বিশ্বের অন্যতম এক পরাশক্তি।

ওসমানীরা তাদের সাফল্যের শিখরে পৌঁছায় সুলতান সুলেয়মান এর সময়ে। তাঁর শাসনামলে (১৫২০-১৫৬৬ খ্রিস্টাব্দ) ওসমানীরা স্পষ্টতই ইউরোপে ও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী শক্তি ছিল। তাঁর শাসনামলকে দেখা হয় ওসমানী ও ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে। এমনকি অমুসলিমরাও ওসমানী সাম্রাজ্যের গৌরবকে স্বীকার করে সুলতান সুলেয়মানকে “the Magnificent” (মহৎ) উপাধি দিয়েছে। অন্যদিকে মুসলিমদের মাঝে তিনি পরিচিত ছিলেন “কানুনি” (the Lawgiver – আইনপ্রণেতা) হিসেবে। যদিও তাঁর পরে ধীরে ধীরে ওসমানী সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়, তবে ১৬শ শতকে ওসমানী সাম্রাজ্যের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি এতোই ছিল যে এর ইতি ঘটে আরো ৩০০ বছর পরে — ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে

প্রারম্ভিক শাসনামল এবং বিজয়সমূহ

ottomanempirein1683-1024x963

সুলতান সুলেয়মান আল-কানুনির শাসনামলে ওসমানী সাম্রাজ্যের মানচিত্র

সুলতান সুলায়মানের পিতা- সুলতান প্রথম সেলিম (ইয়াভুজ সুলতান সেলিম) ওসমানী সাম্রাজ্যের ভূরাজনৈতিক সীমান্তের ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৫১০-এর দশকে ওসমানীদের শাসনাধীন অঞ্চল বৃদ্ধি পায়, এর মধ্যে ছিল আরব বিশ্ব, উত্তর আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বে পারস্য সীমান্তে আরব উপদ্বীপ পর্যন্ত।

নতুন নতুন অঞ্চল বিজয়ের সাথে সাথে মুসলিম বিশ্বের ‘খলিফা’ খেতাবটিও ওসমানীদের করায়ত্ত হয়। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গোল কতৃক বাগদাদ ধ্বংসযজ্ঞের পর আব্বাসীয় খলিফারা কায়রোতে মামলুক সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় বসবাস করতে থাকে। যদিও তখন খলিফা পদটির আর কোন শক্তি ও ক্ষমতা ছিলনা, বরং ছিল এক প্রতীকী খেতাব মাত্র। সুলতান প্রথম সেলিমের অধীনে খিলাফত পুনরায় এর প্রকৃত তাৎপর্য এবং রাজনৈতিক শক্তি ফিরে পায়, লাভ করে এক পুনর্জীবন।

সুলতান সুলেয়মান এই ইসলামী সাম্রাজ্যের সিংহাসনে আসীন হন ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে, মাত্র ২৬ বছর বয়সে। ওসমানী সুলতান এবং মুসলিম বিশ্বের খলিফা হিসেবে তাঁর প্রথম কাজ ছিল ওসমানী সাম্রাজ্যকে কুরে কুরে খাওয়া নানামুখী হুমকির মূলোৎপাটন করা। এই কাজ সম্পন্ন করতে পারলেই ওসমানী সাম্রাজ্যের শক্তি ও অধিপত্তি সকলের কাছে স্বীকৃত হবে এবং কেউই একজন নতুন এবং তরুণ সুলতানের থেকে সুবিধা আদায়ের কথা চিন্তাও করতে পারবেনা।

স্থলভাগে হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের বেলগ্রেড দুর্গ ছিল ওসমানীদের জন্য প্রধান হুমকি । হাঙ্গেরীয়রা ১৫শ শতকের শুরু থেকেই সাম্রাজ্যের উত্তর সীমান্তে ওসমানীদের মূল প্রতিপক্ষ ছিল এবং তখন থেকেই বেলগ্রেড ওসমানী অধিকৃত অঞ্চলের জন্য এক হুমকি। সিংহাসনে আসীন হওয়ার সাথে সাথেই ১৫২১ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সুলেয়মান এক বাহিনী গঠন করে বেলগ্রেড অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। বেলগ্রেডে গোলাবর্ষণের ক্ষণিকের মধ্যেই শহরটি ওসমানীদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং এর সাথে সাম্রাজ্যের উত্তর সীমান্তে হাঙ্গেরীয়দের দাপট খর্ব করে দেয়া হয়।

342px-semailname_47b

ছবিতে সুলতান সুলেয়মান আল-কানুনি

এরপর সুলতান সুলেয়মানকে যে জটিলতা মোকাবেলা করতে হয় তা হলো ভূমধ্যসাগরের রোড্‌স দ্বীপপুঞ্জ। ১৪শ শতকের শুরু থেকেই এই দ্বীপপুঞ্জটি খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের এক অবশিষ্টাংশ — ‘নাইট হসপিটালার’-দের দখলে ছিল। ওসমানীদের নিয়ন্ত্রিত ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি ছিল ভৌগলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোড্‌স এর নাইটরা নিয়মিত ভূমধ্যসাগরে ওসমানীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানোর মতো শক্তিশালী ছিল। বিশেষ করে মিশর থেকে আনাতোলিয়া যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা রোড্‌সদের আক্রমণের কারণে নাজুক অবস্থানে ছিল। এই হয়রানি প্রতিরোধে ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সুলেয়মান রোড্‌স থেকে নাইট হসপিটালারদের হটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই লক্ষ্যে তিনি প্রায় ১ লক্ষেরও অধিক সৈন্যবিশিষ্ট সেনাবাহিনী এবং সুবিশাল নৌবাহিনী মোতায়েন করেন। তিনি নিজেই রোড্‌স দ্বীপপুঞ্জের অবরোধ পরিচালনা করেন যা ১৫২২ খ্রিস্টাব্দের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। অনেক মজবুত ও সুরক্ষিত দুর্গ থাকা সত্ত্বেও নাইটরা এই অবরোধের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। রোড্‌স দ্বীপপুঞ্জের এই হুমকি নিরসনের পর সুলতান সুলেয়মান খ্রিস্টান নাইটদের ইতালি চলে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং দ্বীপপুঞ্জটিকে সাম্রাজ্যের অধীনে নিয়ে আসেন।

ভিয়েনায় ব্যর্থ অবরোধ
উত্তরদিক থেকে হাঙ্গেরীয়দের হুমকি নিরসনের পর অস্ট্রিয়ার হাপ্‌সবুর্গ সাম্রাজ্য ওসমানীদের জয় করা হাঙ্গেরীয় অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবী করে। এরপর তারা ভিয়েনা থেকে হাঙ্গেরি জয়ের জন্য বের হয় এবং ওসমানীদের থেকে ‘বুদা’ শহর ও ইতিপূর্বে ওসমানীদের জয় করা বড় অঞ্চল দখল করে নেয় যেগুলো জয়ের জন্য সুলতান সুলেয়মান ১৫২১ খ্রিস্টাব্দে বেলগ্রেডে এতো কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। এর ফলে সুলতান সুলেয়মানও প্রতিক্রিয়া দেখান ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা জয়ের প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

মধ্যযুগ থেকে ইউরোপের প্রথা ছিল এরকম- যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনী বের হবে বসন্তকালে, গোটা গ্রীষ্মজুড়ে যুদ্ধ করবে এবং শীতকাল শুরুর আগেই তাদের রাজধানীতে ফেরত আসবে। অর্থাৎ তাদেরকে ইউরোপের কনকনে শীতের মধ্যে যুদ্ধ করতে হবেনা। আর এর ফলে নিম্ন তাপমাত্রার কারণে সৈন্যদেরকে মৃত্যুর হাত থেকেও বাঁচানো যাবে।

এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে সুলতান সুলেয়মান ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে ইস্তানবুল থেকে ভিয়েনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। দুর্ভাগ্যবশত সে বছরের গ্রীষ্মকালটি ছিল বৃষ্টিবহুল, যা সচরাচর ঘটেনা। ফলে কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে সেনাবাহিনীর যাত্রা স্থবির হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কারণে প্রচুর কামান এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র যাত্রাপথেই ফেলে রেখে যেতে হয়।

এই আবহাওয়ার কারণে ওসমানীরা ভিয়েনার প্রাচীরে এসে পৌঁছায় সেপ্টেম্বরের শেষদিকে, যা মূলত যুদ্ধকালীন মৌসুমের প্রায় শেষভাগ। ওসমানীদের অবরোধ অপেক্ষাকৃতভাবে সফল ছিল, তাঁরা শহরটি জয় করে ফেলার খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু অবরোধ শুরুর দু’ সপ্তাহ পর “ইয়েনি চেরি” (ইংরেজিঃ Janissaries, ওসমানী সেনাবাহিনীর বিশেষ পদাতিক বাহিনী) অস্ট্রিয়ার কনকনে ঠাণ্ডা শুরুর আগেই ভিয়েনা ছেড়ে ইস্তানবুলে ফিরে যাওয়ার দাবী জানায়। সুলতান সুলেয়মান ইয়েনি চেরিদের দাবী মানতে এবং অবরোধ তুলে ফেলতে বাধ্য হন, ফলে ব্যর্থ হয় হাপ্‌সবুর্গদের হটিয়ে দেয়ার এই প্রচেষ্টা। আর শেষ পর্যন্ত ভিয়েনাই পরিণত হয় ওসমানী সাম্রাজ্যের , যেহেতু তাঁরা আর কখনো ভিয়েনা । এর ফলে ভিয়েনা পরিণত হয় উত্তর-পূর্বদিকে ওসমানী সাম্রাজ্যের সীমারেখায়, যেহেতু এরপর সাম্রাজ্যের পরিধি আর সেদিকে বিস্তার লাভ করেনি। দীর্ঘ ২৩০ বছরের ধারাবাহিক উন্নতির পর ওসমানীরা পৌঁছায় তাঁদের সাফল্যের শিখরে।

প্রশাসনিক সংস্কার
আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সুলতান সুলেয়মান এর মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক অভিযান এবং এর মাধ্যমে সাম্রাজ্যের বিস্তার। তবে বাস্তবে, তাঁর মূল সামরিক অভিযানসমূহ ছিল তাঁর শাসনামলের প্রথম ১০ বছরে। এরপর তাঁর লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার এবং এর মাধ্যমে গোটা সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কাঠামো মজবুত ও সুসংহত করা।

খুব সম্ভবত, সংস্কার সাধনের মাধ্যমে আইনি বিধি-বিধানসমূহের পুনর্গঠন ছিল সুলতান সুলেয়মানের সবচেয়ে বড় অবদান এবং অর্জন — যে কারণে তাঁকে সবচেয়ে বেশী স্মরণ করা হয়। ওসমানী সাম্রাজ্যের আইনি বিধি-বিধানসমূহের দু’টি দিক ছিল। প্রথমটি ছিল শারিয়াহ — আল্লাহ্‌র নির্ধারিত এক আসমানী আইন যা অপরিবর্তিত এবং যা উদ্ভূত হয়েছে কুর’আন ও রাসুল ﷺ এর সুন্নাহ থেকে। দ্বিতীয়টি ছিল সুলতান নির্দেশিত আইন — যা পরিচিত ছিল ‘কানুন’ হিসেবে। সুলতানি আইনসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল সেসকল আইন যেগুলোর বর্ণনা শারিয়াহতে বিশদভাবে দেয়া হয়নি, যেমন- বিভিন্ন ধরনের কর, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর বিধি-বিধান, সাম্রাজ্যের দৈনন্দিন কার্যকলাপ ইত্যাদি।

555989_10100463302435329_1530102853_n

ইস্তানবুলের গালাতা টাওয়ার হতে দেখা সুলেয়মানিয়ে মসজিদ

সুলতান ওসমান থেকে সুলতান সেলিম — বিগত নয়জন সুলতানের শাসনামলে শত শত কানুন জারী করা হয়েছিল, যার কারণে আইনি বিধি-বিধানসমূহের বাস্তবায়ন খুব জটিল ও অসম্ভব এক কাজে পরিণত হয়েছিল। তাই সুলতান সুলেয়মান ইতিপূর্বে জারী করা সকল আইন পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেন। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাম্রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি — শায়খ আল-ইসলাম এবুস্‌সুদ এফেন্দি — এর সাথে কাজ করেন। তাঁরা একত্রে প্রত্যেকটা আইন যাচাই করে দেখেন এবং নির্ধারণ করেন যে আইনগুলো শারিয়াহ বা অন্যান্য কানুনের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা। এভাবে তাঁরা একটি কার্যকরী এবং সহজবোধ্য আইনি বিধি-বিধানসমূহ প্রণয়ন করেন যা “কানুন-ই ওসমানী” (ওসমানী আইন) হিসেবে পরিচিত। এর পরের ৩০০ বছর ওসমানী সাম্রাজ্য এই আইনের অধীনেই পরিচালিত হয়েছিল। একারণে সুলতান সুলেয়মান ইতিহাসে ‘কানুনি’ হিসেবে পরিচিত যার অর্থ ‘আইনপ্রণেতা’।

করের ব্যাপারে সুলতান সুলেয়মানের বিশেষভাবে সচেতন ছিলেন। কানুন-ই ওসমানীতে তিনি তাঁর সাম্রাজ্যের বেশীরভাগ নাগরিকদের — বিশেষ করে খ্রিস্টান কৃষকদের উপর আরোপিত করের পরিমাণ যাতে লঘু করা যায় এবং অব্যাহতি দেয়া যায় তা নিশ্চিত করেন। সেসময় ওসমানী সাম্রাজ্যের জনসংখ্যার বেশিরভাগই ছিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তাদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা ও বিশ্বস্ততা অর্জন করার ব্যাপারে সুলতান সুলেয়মান বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কর প্রদান থেকে অব্যাহতি দেয়ায় সাম্রাজ্যের খ্রিস্টান কৃষকদের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়। প্রকৃতপক্ষে, ওসমানী সাম্রাজ্যে খ্রিস্টানদের উপর আরোপিত করের পরিমাণ খ্রিস্টান ইউরোপের সাম্রাজ্যগুলোতে খ্রিস্টানদের উপর আরোপিত করের চেয়ে কম হওয়ায় বহু ইউরোপীয় খ্রিস্টান সুলতান সুলেয়মানের শাসনামলে ওসমানী সাম্রাজ্যে হিজরত করে। তারা খ্রিস্টান রাজাদের চেয়ে মুসলিম সুলতানের অধীনে বসবাস করাকেই অগ্রাধিকার দেয়।

সাফল্য গাঁথা
সুলতান সুলেয়মানকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ওসমানী সুলতানদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর শাসনামল বিশেষভাবে পরিচিত সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ আয়তন, ন্যায়বিচার ও সুশৃঙ্খল শাসন-বিধি এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির এক স্বর্ণালি যুগ হিসেবে। ইস্তানবুলের ভূপ্রকৃতি আজও সুলতান সুলেয়মানের শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। তাঁর অনুরোধে প্রখ্যাত স্থাপত্যবিদ মিমার সিনান ইস্তানবুলে নির্মাণ করেছিলেন শাহ্‌জাদে মসজিদ এবং সুলেয়মানিয়ে মসজিদ। আজ মসজিদ দু’টি উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ১৬শ শতকের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যের সুলতান সুলেয়মানের শাসনামলের স্বর্ণালী যুগের স্মারক হিসেবে।

অনুবাদ করা হয়েছেঃ The Reign of Sultan Suleyman Kanuni আর্টিকেল থেকে।
অনুবাদকঃ আহমেদ রাকিব

Bibliography:

Hodgson, M. G. S. The Venture of Islam, Conscience and History in a World Civilization. 3. Chicago, IL: University of Chicago Press, 1974.

Hourani, Albert Habib. A History Of The Arab Peoples. New York: Mjf Books, 1997. Print.

Khan, Muhammad. The Muslim 100. Leicestershire, United Kingdom: Kube Publishing Ltd, 2008. Print.

Ochsenwald, William, and Sydney Fisher. The Middle East: A History. 6th. New York: McGraw-Hill, 2003. Print.

<< সুলতান সুলেমান : সিনেমায় ও ইতিহাসে >>

Advertisements

About ইসলামের হারানো ইতিহাস

An Islamic history website in Bengali language which is basically the Bengali translation of the “Lost Islamic History” website (lostislamichistory.com) and Facebook page (fb.com/LostIslamicHistory).
This entry was posted in ওসমানী ইতিহাস, নির্বাচিত and tagged , , , , , , , . Bookmark the permalink.

3 Responses to সুলতান সুলেয়মান আল-কানুনি’র শাসনামল

  1. *** সকলকে একটি ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করে দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছি ***

    সম্প্রতি “সুলতান সুলেমান” নামক একটি টিভি সিরিজ (bn.wikipedia.org/wiki/সুলতান_সুলেমান_(টিভি_ধারাবাহিক) ) বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়েছে। যেখানে ইসলামের ইতিহাসের কালজয়ী এই সুলতানকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা তাঁকে এবং তাঁর অবদানকে সরাসরি অপমান ও অসম্মান করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বিস্তারিত জানতে পড়ুনঃ “সুলতান সুলেমান : সিনেমায় ও ইতিহাসে” article @ http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/83144

    article এর কিছু চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরছিঃ

    “অটোমান বা ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের অন্যতম দিকপাল মহান সুলতান সুলেমানকে নিয়েও কাজ হয়েছে। সিনেমা তৈরির সময় রচনাকারী, প্রযোজক, পরিচালক ভুলে যান না এর মধ্যে বিনোদন এবং কাহিনী কাব্যের রসদ না দিলে দর্শক টানবে না। মেরাল ওকেয় রচিত সুলতান সুলেমান নির্মাণের সময় ইয়ামুর তাইলানরা সেই বাস্তবতাটি ভুলে যাননি। বিনোদন উপস্থাপন করতে গিয়ে শাসক সুলতান সুলেমানকে কিছুটা আড়ালে ঠেলে দেয়া হয়েছে। হেরেমের কূটকচাল, দাস-দাসীদের দৈনন্দিন জীবনাচার এবং সুলতানাদের স্নায়ুযুদ্ধ বিনোদন জোগান দেয়ার স্বার্থে প্রাধান্য পেয়ে গেছে। হেরেমের ড্রেস কোড খোলামেলাভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। সিরিজজুড়ে অন্দরমহলের প্রাধান্যের কারণে একজন সুশাসক, তুখোড় কূটনীতিক ও বিচক্ষণ সুলতানের পরিচিতি তুলনামূলক কম গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। সিরিজগুলো ‘আকর্ষণীয়’ ও আদিরসাত্মক করার জন্য যত গোঁজামিলই দেয়া হোক, কোনো জননন্দিত সুশাসক রমণীকাতর কামিনীবল্লভ হন না। এ ব্যাপারে সুলতান সুলেমানও ইতিহাসের কাছে অভিযুক্ত নন।

    ইতিহাসের পাঠক এবং ইতিহাস-অনুপ্রাণিত দর্শক ভুলে যেতে পারেন না, বিনোদনের রসদ জননন্দিত কোনো শাসকের বৈশিষ্ট্য নয়। ইতিহাসের অংশও নয়। তবে সামগ্রিক জীবনের অংশ। সম্প্রতি সুলতান সুলেমানের ওপর নির্মিত আলোচিত-সমালোচিত কাহিনী নাটকটি একটি বেসরকারি চ্যানেল দেখাতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশত সিরিজ প্রদর্শিতও হয়ে গেছে। এই প্রজন্মের কাছে ইতিহাসখ্যাত সুলতান সুলাইমান বা সুলেমান ও অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস আকর্ষণীয় কিছু নয়। তবে নির্মাণশৈলী ও বিনোদনের রসদ দিয়ে হেরেমের কাহিনীগুলো যেভাবে রগরগে করে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে এ যুগে ‘দর্শকপ্রিয়তা’ পাওয়ারই কথা। নতুন চ্যানেলটি সুলতান সুলেমান দেখিয়েই কিছু পরিচিতি পেয়েছে। বাস্তবে বা ইতিহাসের সুলেমান-১ হেরেমের নায়ক নন। ইতিহাসের কালজয়ী এক মহানায়ক।”

    Like

  2. পিংব্যাকঃ ওসমানী সাম্রাজ্যের পত্তন | ইসলামের হারানো ইতিহাস

  3. পিংব্যাকঃ ওসমানী সুলতানের কাছে (স্পেনের) মরিস্কোদের আবেদন | ইসলামের হারানো ইতিহাস

পোস্টটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্যঃ

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s