কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় — ইবনে খালদুন এবং করব্যবস্থা

আমেরিকার ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে দেয়া তার এক বিখ্যাত সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,

“আমি কি তোমাদের সামনে ১৪শ শতকের আরব ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের উপদেশটা পেশ করতে পারি? যিনি বলেছিলেন, “শুরুর দিকে একটা সাম্রাজ্যের করের হার কম থাকে কিন্তু রাজস্ব আয়ের পরিমাণ থাকে বেশি। অন্যদিকে সাম্রাজ্যের পতনকালে করের হার বেশি থাকে কিন্তু রাজস্ব আয়ের পরিমাণ থাকে কম।”

আর, না, ব্যক্তিগতভাবে খালদুনের সাথে আমার পরিচয় নেই। তবে আমাদের নিজেদের পরিচিত কিছু বন্ধুবান্ধব থাকতে পারে।” (১)

 

reagan

প্রেসিডেন্ট রিগ্যান ১৯৮১ সালে টেলিভিশনে তার কর হ্রাসকরণ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। ইবনে খালদুন এবং সরবারহ-ভিত্তিক অর্থনীতির ধারণা রিগ্যানকে অনেক প্রভাবিত করেছিল।

রোনাল্ড রিগ্যানের এই রক্ষণশীল অর্থনৈতিক নীতির সাথে কেউ একমত বা দ্বিমত হতে পারেন, কিন্তু রিগ্যান ইবনে খালদুন নামে যে ব্যক্তি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও বিদগ্ধতা নিয়ে কারো কোন প্রশ্ন নেই। তিনি ছিলেন তাঁর সময়েরও অনেক অগ্রগামী চিন্তক। ১৩৭৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর অমর কীর্তি ‘মুকাদ্দিমাহ্‌’ (আরবীঃ مقدّمة ابن خلدون‎‎) প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটিকে বই হিসেবে সুনির্দিষ্ট কোনো শ্রেণীতে ফেলা বেশ কঠিন। একইসাথে বইটিতে ইতিহাস, ইসলাম, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি, যু্দ্ধবিদ্যা এবং দর্শনের উপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। শুধু একটি প্রবন্ধে তাঁর বইটির বর্ণনা শেষ করা হলে ইবনে খালদুন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাঁর রেখে যাওয়া বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারের প্রতি অবিচার করা হবে। বরং এই আলোচনায় আমরা তাঁর কিছু অর্থনৈতিক ধারণার উপর দৃষ্টিপাত করব, যা কয়েক শতাব্দী পরে গঠিত সরকারগুলোর কর ব্যবস্হাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে বর্তমানে কাজ করছে।

ইবনে খালদুনের পরিচয়
তিনি উত্তর আফ্রিকার তিউনিস নগরীতে এক ধনী আন্দালুসি (মুসলিম স্পেনীয়) পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। আইবেরিয় উপদ্বীপ (বর্তমান স্পেন ও পর্তুগাল) এর কর্তৃত্ব মুসলিমদের হাত থেকে খ্রিস্টানদের হাতে চলে গেলে তাঁর পরিবারকে এ অঞ্চল থেকে পালিয়ে তিউনিসে চলে আসতে হয়। ছোটকাল থেকেই তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় তথা কুরআন, হাদিস, ফিক্‌হ, আইন এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় যেমন পদার্থবিদ্যা, গণিত, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এই বুৎপত্তি অর্জন তাঁকে পরবর্তী জীবনে বিশ্ব সম্পর্কে উপলব্ধি এবং সে সম্পর্কিত বিশ্লেষণকে প্রভাবিত করে।

ibn-khaldun

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে ইবনে খালদুনের ভাস্কর্য

পরিণত জীবনের শুরুর দিকে তিনি উত্তর আফ্রিকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট কেরানীর কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৩৬৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন আল-আন্দালুস (মুসলিম স্পেন) এর গ্রানাদা আমিরাতে একটি কাজের সুযোগ পেলে তিনি তা লুফে নেন। তিনি সেখানে গ্রানাদা সরকারের পক্ষে একজন সফল কুটনীতিক হিসেবে কাজ করেন এবং গ্রানাদা সরকারের সঙ্গে পাশ্ববর্তী খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর শান্তিচুক্তি প্রণয়নে অবদান রাখেন। পরে অবশ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন এবং আফ্রিকায় ফিরে আসেন। এরপর এখানেই তিনি ‘মুকাদ্দিমাহ্‌’ সংকলনের কাজ সম্পন্ন করেন।

রাজস্ব আয়
বলা হয়ে থাকে, অর্থনীতির উপর ইবনে খালদুনের আলোচনাগুলোর সাথে সবসময় সরকার এবং সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সংশ্লিষ্টতা থাকত। তিনি দাবী করেন যে, যেকোন রাজবংশ কিংবা সাম্রাজ্যের একটি প্রাকৃতিক সময়সীমা আছে। প্রায় কখনোই তা তিন প্রজন্মের বেশি স্থায়ী হয়না এবং এই পর্যায়ে এসে নতুন কোন রাজবংশ আগেরটার জায়গা দখল করে নেয়। করব্যবস্থা এই সময়সীমার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত এবং একটি রাজবংশ বা সরকার কতদিন স্থায়ী হবে করব্যবস্থাই তা নির্ধারণ করতে সহায়তা করে।

রোনাল্ড রিগ্যানের উদ্ধৃত “আরোপিত কর যখন কম থাকে তখন রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বেশি থাকে এবং করের হার বেশি থাকার অর্থ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কম” মন্তব্যটি ইবনে খালদুন তাঁর রাজস্ব আয় সংক্রান্ত আলোচনার শুরুতে উল্লেখ করেন। পরবর্তী বাক্যে ইবনে খালদুন এর কারণসমূহ বর্ণনা করেনঃ

“এমনটি হওয়ার কারণ হল, সাম্রাজ্য যখন দ্বীনের পথ অবলম্বন করে, তখন শুধু সেই ধরণের করই আরোপ করা হয় যা ধর্মীয় আইনের আওতাধীন। যেমন- যাকাত, ভূমিকর, মাথাপিছু ধার্য কর ইত্যাদি। এগুলোর ধার্যের পরিমাণ কমই হয় কারণ, সবাই জানে যে সম্পদের উপর যাকাতের পরিমাণ খুবই কম।” (২)

সত্যিকার অর্থে, ইসলামী আইন অনুযায়ী, ধর্মীয়বিধান করের স্বল্পতাকে নির্দেশ করে। যাকাতের পরিমাণ সঞ্চিত সম্পদের (স্বর্ণ, রৌপ্য বা মুদ্রা) উপর মাত্র ২.৫ শতাংশ এবং এই কর গরীবদের জন্য, সরকারে জন্য নয়। অন্যান্য করসমূহ যেমন — ভূমি কর, মাথাপিছু ধার্য কর ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বে কখনোই কঠোর ছিলনা। ইবনে খালদুনের বক্তব্য হচ্ছে, একটি সরকার তখনই বেশি সফলতার মুখ দেখবে যখন তা ইসলামী নীতিমালা মেনে চলে এবং জনগণের উপর অতিরিক্ত কর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে।

সৎ সরকার
এর সঙ্গে পরবর্তী অধ্যায়ে ইবনে খালদুন আরো যোগ করেন যে, সাম্রাজ্যের প্রথমদিককার রাজস্ব আয় ব্যবস্থার সফলতার অন্যতম কারণ হল, সাম্রাজ্যের শুরুর দিকে শাসকেরা ব্যক্তিগত সম্পত্তির চেয়ে সাম্রাজ্যের ভেতরে শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বেশি মনোযোগী থাকেন।

“সাম্রাজ্যের শুরুতে, রাজস্ব আয় শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে ঐক্য রেখে চলা জনগণ ও গোত্রের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হয়। কারণ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতৃস্থানীয়রা নিজেদের জন্য রাজস্ব আয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন যদিও তাদের সেটা গ্রহণের আকাঙ্খা থাকে।” (৩)

এখানে ইবনে খালদুন ব্যাখ্যা করছেন কেন সাম্রাজ্যের শুরুতে ক্ষুদ্র করব্যবস্থা কার্যকরী থাকে — তা হলো শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি না থাকা। যতদিন পর্যন্ত শাসকগণ রাজ্যের একতা এবং সরকারের কার্যকারীতার ব্যাপারে সচেতন থাকেন, রাজস্ব আয় রাজ্যের নানান প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন ও শক্তিশালী করতে ব্যয় করেন। অন্যদিকে যখন সাম্রাজ্য দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে, রাজস্বের একটি একটি বিরাট অংশ চলে যায় শাসকের ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের পেছনে। এমন ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই করধার্যের পরিমাণ বেড়ে যায়।

এর একটি কিংবদন্তী উদাহরণ হল ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবন আল-খাত্তাব (রাঃ), যিনি ৬৩৪ থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেছিলেন। তিনি তাঁর ঘরে আলোর জন্য ভিন্ন দু’টি প্রদীপবাতি ব্যবহার করতেন। একটি ছিল করদাতাদের অর্থে কেনা যেটা তিনি ব্যবহার করতেন কেবল মুসলিম উম্মাহর খলিফা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাজে। অন্যটি ছিল তাঁর নিজের অর্থে কেনা যেটি রাষ্ট্রীয় কাজের বাইরে অন্য যেকোন কাজে ব্যবহার করতেন। এর পিছনে তাঁর কারণ ছিল করদাতাদের অর্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে নিজের ব্যক্তিগত কাজে অপচয় না করা। এজন্য উমর (রাঃ) এর শাসনামলে নতুন প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্রটি বেশীরভাগ খাতেই খুবই কার্যকরী ছিল।

অন্য আরেকটি উদাহরণ হল ১২শ শতকে সালাহ আল-দ্বীন আইয়ুবীর শাসনামল। তিনি যখন ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন, মিশর আর সিরিয়ার সুলতান হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বল্পসংখ্যক স্বর্ণ এবং রৌপ্যমুদ্রা ছাড়া আর কিছুই রেখে যাননি। তিনি সরকারী অর্থ সেনাবাহিনীকে কিংবা সরকারের অন্যান্য অংশকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার ব্যাপারে বিখ্যাত ছিলেন। এভাবেই তিনি একটি শক্তিশালী সরকার প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিলেন যা ক্রুসেডারদের হাত থেকে জেরুজালেমকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল

সরবারহ-ভিত্তিক অর্থনীতি
ইবনে খালদুন উচ্চ কর আরোপের অন্য একটি সমস্যা তুলে ধরেনঃ

“উচ্চ কর আরোপের সমস্যা হল, জনগণ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কারণ মানুষ যখন আয় ও লাভের সাথে ব্যয় ও ধার্যকৃত করের তুলনা করে মুনাফার পরিমাণ কম দেখতে পায় তখন তারা এসব বিষয়ে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। ফলে তারা সকল ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিরত রাখে। এর কারণে সর্বসাকুল্যে রাজস্ব কমে যায়।” (৪)

ইবনে খালদুনের যুক্তি হচ্ছে যখন সরকার জনগণের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে (বিশেষত যারা কাজের সুযোগ/চাকুরী সৃষ্টি করতে পারে তাদের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে), তখন জনগণ তাদের অর্থ নতুন কোন ব্যবসায়িক উদ্যোগে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলে। কারণ খুব সহজঃ যখন সরকার আপনার অর্থে কর আরোপ করবে, ব্যবসায়িক কাজে খরচ করবার মত অর্থের পরিমাণ কমে যাবে যা অর্থনৈতিক স্থবিরতা ডেকে আনবে এবং পরিণতিতে রাজস্ব আয়ের পরিমাণও কমে যাবে।

এই ধারণাটি বর্তমান সময়ে সরবরাবহ-ভিত্তিক অর্থনীতির একটি অন্যতম মূল ভিত্তি। যারা এই অর্থনীতির সমর্থক তারা যুক্তি দেখান যে, বড় প্রতিষ্ঠান এবং সম্পদশালীদের উপর করের পরিমাণ কম হওয়া উচিত। কারণ, করের হার কম হলে তাদের হাতে অধিক অর্থ থাকবে যা তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হবে। ফলে এটা কম সম্পদশালী মানুষদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিবে। একারণে এই বিশেষ অর্থনৈতিক ধারণাকে ‍চুইয়েপড়া অর্থনীতি (trickle down economics) হিসেবে অখ্যায়িত করা হয়। এটা আধুনিক বিশ্বের অনেক রক্ষণশীল-অর্থনৈতিক-নীতি প্রনয়ণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। রক্ষণশীল রাজনীতিবীদগণ (যেমন আমেরিকার ৪০তম প্রেসিডেন্টঃ রোনাল্ড রিগ্যান, ১৯৮১-১৯৮৯) উচ্চ কর আরোপের পক্ষে থাকা উদার অর্থনৈতিক ধারণার বিপরীতে নিম্ন কর নীতির সমর্থনে এই ধারণাকে ব্যবহার করেছেন।

লাফার রেখা

laffer1

একটি সাধারণ লাফার রেখা — যেখানে ৭০ শতাংশ হারে কর সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় নিশ্চিত করেছে

অধিক রাজস্ব আয়ের নিশ্চয়তাপ্রদানকারী একটি ভারসাম্যপূর্ণ করব্যবস্থা সম্পর্কিত ইবনে খালদুনের ধারণা পরবর্তীতে লাফার রেখা হিসেবে পরিচিতি পায়। অধিক রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে এখনকার সময়ে অর্থনীতিবীদরা লাফার রেখার মাধ্যমে সঠিক করের হার নির্ণয় করেন। রেখাটি সাধারণত একটি উপবৃত্তাকার (parabolic) আকার ধারণ করে যার মাধ্যমে দেখানো হয় যে, অতিরিক্ত উচ্চমাত্রায় করের হার এবং অতিরিক্ত নিম্নমাত্রায় করের হার উভয়ই কম রাজস্ব আয়ের দিকে ধাবিত করে। এ ধারণা অনুযায়ী উচ্চ এবং নিম্ন কর হারের মাঝে একটি নিখুঁত করের হার রয়েছে যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের উৎসাহ-উদ্দীপনা নষ্ট করেনা অথচ একইসাথে অধিক রাজস্ব আয়কে নিশ্চিত করে।

লাফার রেখার নামকরণ করা হয়েছে আমেরিকান অর্থনীতিবীদ আর্থার লাফারের নাম অনুসারে। লাফার নিজে কখনো এমন দাবী করেননি যে তিনি এধারণাটির উদ্ভাবক। বরং তিনি নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করেন যে এধারণাটি তিনি ইবনে খালদুনের কাছ থেকে পেয়েছেনঃ

“লাফার রেখা আসলে আমি আবিস্কার করিনি। উদাহরণস্বরূপ, ১৪শ শতকের একজন মুসলিম দার্শনিক ইবনে খালদুনের কথা বলা যায় যিনি তাঁর গ্রন্থ ‘মুকাদ্দিমাহ্‌’-তে লিখেছেনঃ ‘এটা জানা উচিত যে একটি সাম্রাজ্যের শুরুতে কম আরোপিত কর থেকে অধিক রাজস্ব আয় অর্জিত হয়। সাম্রাজ্যের পতনকালে বিশাল আরোপিত কর থেকে স্বল্প রাজস্ব আয় অর্জিত হয়’।” (৫)

উপসংহার
পরিস্কারভাবেই করব্যবস্থা সম্পর্কিত ইবনে খালদুনের অর্থনৈতিক ধারণা তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক অনেক বেশী অগ্রগামী ছিল। যদিও তিনি ছিলেন ১৪শ শতকের, তাঁর প্রদান করা ধারণাগুলো আধুনিক সময়ের পুঁজিবাদী চিন্তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ‘মুকাদ্দিমাহ্‌’-তে সরকার এবং অর্থনীতি সম্পর্কিত তাঁর দেয়া ধারণাগুলো সময় কিংবা কালোত্তীর্ণ নির্দেশনা, যা নিশ্চিতভাবেই আধুনিক ব্যবস্থা প্রণয়ণে অবদান রেখেছে। সত্যি বলতে সবচেয়ে অবাক করে দেয়ার মত ব্যাপার হচ্ছে, এই আর্টিকেলে ইবনে খালদুনের মাত্র কয়েকটি অর্থনৈতিক ধারণা নিয়ে কথা বলা হয়েছে। ‘মুকাদ্দিমাহ্‌’-তে আরো রয়েছে — ইতিহাসের দর্শন, সরকার, ধর্ম, সমাজবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান, শিক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা। উত্তর আফ্রিকার সত্যিকার প্রতিভাধর এই মুসলিম ব্যক্তিটির অবদান করব্যবস্থা কিংবা লাফার রেখার সীমারেখাকে ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে বহু বহু দূরে।

অনুবাদ করা হয়েছে How To Make Money – Ibn Khaldun and Taxes আর্টিকেল থেকে।
অনুবাদকঃ উসমান সাব্বির আহমাদ

Footnotes:

(১) – Ronald, Reagan. “There They Go Again.” New York Times18 02 1993, n. pag. Web. 1 Dec. 2012.
(২) – Ibn Khaldūn. The Muqaddimah, An Introduction To History. Bollingen, 1969. 230. Print.
(৩) – Ibn Khaldūn, 231.
(৪) – Ibn Khaldūn, 230.
(৫) – Laffer, Arthur. “The Heritage Foundation.” Heritage Foundation. 2004. n. page. Web. 1 Dec. 2012. <http://www.heritage.org/research/reports/2004/06/the-laffer-curve-past-present-and-future&gt;.

Advertisements

About ইসলামের হারানো ইতিহাস

An Islamic history website in Bengali language which is basically the Bengali translation of the “Lost Islamic History” website (lostislamichistory.com) and Facebook page (fb.com/LostIslamicHistory).
This entry was posted in দর্শন and tagged , , , , . Bookmark the permalink.

5 Responses to কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় — ইবনে খালদুন এবং করব্যবস্থা

  1. পিংব্যাকঃ গ্রানাদা — স্পেনের সর্বশেষ মুসলিম সাম্রাজ্য | ইসলামের হারানো ইতিহাস

  2. পিংব্যাকঃ ওসমানী সাম্রাজ্যের পত্তন | ইসলামের হারানো ইতিহাস

  3. পিংব্যাকঃ ওসমানী সুলতানের কাছে (স্পেনের) মরিস্কোদের আবেদন | ইসলামের হারানো ইতিহাস

  4. অজ্ঞাত বলেছেন:

    খুবই প্রয়োজনীয় সময়োপযোগী লেখা। বর্তমান বাংলাদেশী শাসকদের স্মরণ রাখা দরকার।

    Liked by 1 person

পোস্টটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্যঃ

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s