আল-আন্দালুসে অনৈক্য – “তাইফা যুগ”

ইসলামের ইতিহাসে বারবার পুনরাবৃত্তি হওয়া ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের অভাব, যা ধারাবাহিকভাবে মুসলিম বিশ্বকে দুর্বলতার দিকে ধাবিত করেছে, ফলে পতন হয়েছে অনেক সাম্রাজ্যের। এর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হলো একাদশ শতাব্দীতে আল-আন্দালুস – মুসলিম স্পেন এর তাইফা যুগ। ৮ম শতাব্দীর দিকে উমাইয়াদের অধীনে আল-আন্দালুস একটি শক্তিধর এবং সমৃদ্ধশালী প্রদেশ হিসেবে উত্থান লাভ করে। ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীদের অভ্যুত্থানের পর উমাইয়া রাজবংশের বেঁচে যাওয়া সদস্যদের সার্বভৌম ক্ষমতার অধীনে আল-আন্দালুস একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

আল-আন্দালুস সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায় ১০০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক, উভয় দিক দিয়েই কর্ডোবার এই উমাইয়া খিলাফত ছিল পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র। জ্ঞানার্জন এবং শিক্ষাব্যবস্থার দিক দিয়ে, শৈল্পিক, সামাজিক কৃতিত্বের দিক দিয়ে আল-আন্দালুস মুসলিম বিশ্বের অন্য যেকোন অংশকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, বিশেষ করে ইরাক, মিশর এবং পারস্যের মতো উন্নত সভ্যতাকেও। তবে পরবর্তী ৫০ বছরেই সবকিছুতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এক শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র থেকে আল-আন্দালুস পরিণত হয় এক বিভক্ত, ভঙ্গুর, এবং রাজনৈতিকভাবে বহিঃশক্তির উপর নির্ভরশীল এক রাষ্ট্রে। এ সময়টি পরিচিত হচ্ছে “তাইফা যুগ” হিসেবে, যখন আল-আন্দালুসের পতনের বীজ রোপিত হয় এবং এর ফলে আল-আন্দালুসের চূড়ান্ত পতন হয় ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে।

“তাইফা”-র উত্থান
৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে এক ১০ বছর বয়সী বালক আল-আন্দালুসের উমাইয়া খিলাফতের তখ্‌তে আরোহণ করে। যেহেতু সে ছিল সবেমাত্র একজন বালক, তাই নেতৃত্ব দেয়ার মতো অবস্থা তার ছিলনা। নেতৃত্বের মূলশক্তি চলে যায় উমাইয়া আদালতের এক উপদেষ্টা “আল-মানসুর ইবন আবি আমীর” এর কাছে। আল-মানসুরের সক্রিয় এবং কার্যকরী নেতৃত্বে আইবেরিয়া পেনিনসুলা (বর্তমান স্পেন এবং পর্তুগাল)-র মুসলিমগণ তাদের উন্নতির চরম শেখরে পৌঁছায়। তবে আল-মানসুরের একচেটিয়া নেতৃত্বই ছিল খলিফার গুরুত্ব হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ। ১০০২ খ্রিস্টাব্দে আল-মানসুরের মৃত্যুর পর গোটা আল-আন্দালুসে অনৈক্য মাথাচড়া দিয়ে উঠে, এবং খলিফাও তার কর্তৃত্ব জাহির করতে ব্যর্থ হন। ফলাফলস্বরূপ গোটা আইবেরিয়া পেনিনসুলার বিভিন্ন প্রদেশের শাসকেরা তাদের নিজ নিজ প্রদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করে – এই প্রদেশগুলো “তাইফা” নামে পরিচিত ছিল।

কর্ডোবা খিলাফতের পতনের পর ১০৩১ খ্রিস্টাব্দে আল-আন্দালুসের তাইফা প্রদেশসমূহ

তাইফাগুলোর উত্থানের ব্যাপারে সবচেয়ে ভাল ব্যাখ্যা দিয়েছেন আবদাল্লাহ ইব্‌ন বুলুগিন, যিনি তাইফাগুলোর উত্থানের সমসাময়িক এক ব্যক্তিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সবকিছুর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনকারীঃ

“যখন আল-মানসুরের এর ‘আমিরিদ রাজবংশের ইতি ঘটে এবং জনগণ ইমাম (নেতা)-হীন হয়ে পড়ে, তখন সকল সামরিক সেনাপতিরা যার যার শহরের ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং নিজের দুর্গের চারদিক পরিখা দ্বারা সুরক্ষিত করে ফেলে। এভাবেই সবার আগে নিজের গদি নিশ্চিত করার পর তারা নিজের সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠা করে এবং সব অর্থ-সম্পদ জড়ো করতে থাকে। মূলত সবাই পার্থিব ক্ষমতা লাভের জন্যই একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করে এবং প্রত্যেকেই অন্য সবাইকে দমন করার চেষ্টা চালায়।” (১)

এসকল তাইফা রাজাদের কেউই উমাইয়া পরিবারের ছিলনা, এবং রাজ্য শাসনের জন্য ঐতিহ্যগত দাবীও তাদের ছিলনা। তাই সমাজে কর্তৃত্ব জাহির করার ব্যাপারে তাদের যোগ্যতা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জমি দখল করার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। একাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে কয়েক ডজন সামরিক সেনাপতির উত্থান হয়, স্বাভাবিকভাবেই দ্বন্দ্ব-সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে।

তাইফাগুলো সাধারণত বড় বড় শহরগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল, যেমন- টলেডো, গ্রানাডা, সেভিল, এবং কর্ডোবা। তাইফা রাজারা অন্য তাইফার সাথে যুদ্ধ করার জন্য নিজ নিজ রাজ্যের জনগণকে ব্যবহার করে নিজ নিজ সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। মুসলিম রাজাদের মাঝে এমন যুদ্ধ স্পেনে ইসলামকে ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

তাইফাগুলোর বৈশিষ্ট্য
আল-আন্দালুস ছিল বিভিন্ন সংস্কৃতির সম্মিলনে বৈচিত্র্যময় এক অঞ্চল, তাই তাইফাগুলোর রাজাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমনই ছিল। আইবেরিয়া পেনিনসুলার দক্ষিণাংশের তাইফাগুলোর রাজারা এসেছিল বিত্তশালী আরব পরিবার থেকে, মূলত ধ্বংসের সম্মুখীন তৎকালীন সাম্রাজ্যের নেতৃত্বে তারাই ছিল। সেভিল, সারাগোজা, এবং কর্ডোবা নগরীর নেতৃত্বে ছিল এমন রাজাগণ। অন্যদিকে একদম উত্তরাঞ্চলে বারবার জনগোষ্ঠীর লোকেরা ৮ম শতাব্দী থেকেই বসতি গড়ে তুলেছিল, কারণ এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ছিল তাদের আদিভূমি উত্তর আফ্রিকার অনুরূপ। তাই এই অঞ্চলের তাইফা রাজাগণ ছিলেন বারবার গোত্রের।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, নিজেদের মধ্যে এহেন প্রতিযোগিতার মূল কারণ কিন্তু জাতিগত বিভাজন নয়। বরং সকল তাইফা রাজাদের মাঝে নিজেকে শক্তিধর হিসেবে তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য। অনুগত সেনাবাহিনী নিয়ে তারা আশেপাশের জমি লুণ্ঠন করতো, অন্য তাইফা রাজাদের থেকে প্রতিবেশী শহরগুলো দখল করে নিত। অনবরত ঘটতে থাকা এই অচলাবস্থার কারণে একাদশ শতাব্দীর শুরু থেকে ১০৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই তাইফার সংখ্যা ৩০ থেকে ৯ এ নেমে আসে, মূলত শক্তিধর তাইফাগুলো দুর্বল তাইফাগুলোকে দখল করে নিয়েছিল।

খ্রিস্টানদের অগ্রযাত্রা
একমাত্র যারা তাইফা যুগে প্রকৃতপক্ষে উপকৃত হয়েছিল তারা হচ্ছে আল-আন্দালুসের উত্তরদিকে খ্রিস্টান রাজ্যসমূহ। যখন একদিকে তাইফাগুলো একে অপরের সাথে যুদ্ধে ব্যস্ত, অন্যদিকে তখন খ্রিস্টান রাজ্যগুলো এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। তারা তাদের রাজ্য থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মুসলিম অঞ্চলগুলো দখল করতে থাকে। যদিও বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তাইফা রাজারা তাদের পক্ষ হয়ে অন্য তাইফা রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য খ্রিস্টান রাজাদের আমন্ত্রণ জানাত। মূলত এটাই ছিল একাদশ শতাব্দীতে আল-আন্দালুসের অনেক অঞ্চল মুসলিমদের হাতছাড়া হবার কারণ।

সর্বপ্রথম যে তাইফা খ্রিস্টানদের কাছে সাহায্য চায় সেটি ছিল সাবেক উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী- কর্ডোবা। একাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে খিলাফতের পতন হলে শহরের অভ্যন্তরে কর্ডোবার অধিবাসী এবং সাম্প্রতিককালে উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত বারবার যোদ্ধাদের মাঝে দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হয়ে যায়। ১০১০ থেকে ১০১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে শহরে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষই ভাড়াটে খ্রিস্টান সৈন্যদের নিয়োগ দেয়। কয়েক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম, মুসলিম স্পেনের সাবেক রাজধানী কর্ডোবার রাস্তায় অমুসলিম যোদ্ধারা অস্ত্র প্রদর্শন করে প্যারেড করে।

কর্ডোবা যখন এমন দ্বন্দ্ব-সংঘাতের নজির স্থাপন করলো, অন্য মুসলিম তাইফাগুলোও আর বসে রইলোনা। তারাও দ্রুত নিজেদের বাহিনীতেই ভাড়াটে খ্রিস্টান সৈন্যদের নিয়োগ দেয়া শুরু করে, এমনকি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন খ্রিস্টান রাজাদেরকে তাদের পক্ষ হয়ে অন্য মুসলিম তাইফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুরোধ করে। টলেডোর তাইফা ১০৪৩ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টান রাজ্য “ন্যাভেররে” কে আহবান জানায় “গুয়াদালাজারা” তাইফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। এর বদৌলতে খ্রিস্টান রাজ্য ন্যাভেররে-র রাজা গার্সিয়া সান্‌চেজ পায় মূল্যবান সব উপহার এবং সরবরাহ। শুধু তাই নয়, তারা টলেডোর মুসলিম গ্রামগুলোকে ভীত-স্বন্তস্ত্র করে জনসাধারণের পাকা ফসল কেটে নিয়ে যায়। প্রতিশোধ হিসেবে, গুয়াদালাজারা তাইফা সাহায্য চায় “লিওন-ক্যাস্টিলে” রাজ্যের রাজা প্রথম ফার্নান্ডোর কাছে, প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক মুসলিম তাইফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিনিময়েপ্রথম ফার্নান্ডোও বিপুল পরিমাণ সম্পদ হস্তগত করে।

এ ধরনের পরিস্থিতির ডজনখানেক উদাহরণ বিদ্যমান। এগুলোর তালিকা তৈরী করার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতগুলো তৎকালীন আল-আন্দালুসে কেমন এবং কি কি প্রভাব ফেলেছিল। আপাত দৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে খ্রিস্টান বাহিনীগুলো যেভাবে তাদের রাজ্যের প্রসার ঘটায়, সেই প্রক্রিয়াটি। খ্রিস্টান সেনাদের ব্যবহারের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফলাফল ছিল মুসলিম রাজ্যগুলোতে খ্রিস্টানদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়া। খ্রিস্টান রাজারা তাদের রাজ্য থেকে দক্ষিণ দিকে আল-আন্দালুসে তাইফাগুলোর সাথে যুদ্ধ করে মুসলিম অঞ্চলগুলো দখল করে নিজেদের অংশে যোগ করে ফেলে। আগের চেয়ে তাইফা যুগে এ কাজটি করা খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর জন্য খুব সহজ ছিল কারণ তখন মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, ঐক্য বলতে কিছুই ছিলনা। এর ফলে যে শহরগুলো একসময়ে মুসলিম নিয়ন্ত্রণে ছিল সেগুলো ধীরে ধীরে খ্রিস্টান সাম্রাজ্যের অধীনে নিজেদের আবিষ্কার করে। এটা বলার আর অপেক্ষা রাখেনা যে, এরপর থেকে এ অঞ্চলের মুসলিমদের আলাদাভাবে দেখা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে মুসলিমদেরকে জাতিগতভাবে নির্মূল করে অঞ্চলটিকে সম্পুর্ণ খ্রিস্টান রাজ্যে পরিণত করা হয়।

এ যুদ্ধগুলোর আরেকটি ফলাফল ছিল চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়। তাইফা রাজাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করার বিনিময়ে খ্রিস্টান রাজারা বিরাট অংকের অর্থ, সম্পদ, এবং সরবরাহ আদায় করে নেয়। এটি তাইফাগুলোকে একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক পতনের দিকে নিয়ে যায়। জনসাধারণের থেকে আদায় করা রাজস্ব কর তাইফাগুলোর হাতছাড়া হতে থাকে, ফলে বিনিয়োগ করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, খ্রিস্টান রাজাদের পিছনে এতো বেশী অর্থ্য ব্যয় করার ফলে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা করার শক্তিই হারিয়ে ফেলে। এর ফলে তারা খ্রিস্টান রাজাদের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়।

তাইফা যুগের সমাপ্তি
তাইফাগুলোর দ্বন্দ্ব-সংঘাতের এই সর্বনাশা চক্র যদি অব্যাহত থাকতো, তাহলে গোটা আল-আন্দালুস একাদশ কিংবা দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যেই খ্রিস্টানদের হস্তগত হয়ে যেত। যাই হোক, এমনটি আর ঘটেনি। তাইফাগুলো যখন আইবেরিয়া পেনিনসুলায় নিজেদের মাঝে যুদ্ধ-বিগ্রহে ব্যস্ত, ঠিক সে সময় উত্তর আফ্রিকায় এক নতুন আন্দোলন জেগে উঠছিল।

১১২০ খ্রিস্টাব্দে মুরাবিতুন সাম্রাজ্য

১০৪০ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার বারবার গোত্রীয় এক স্কলার আবদুল্লাহ ইবন ইয়াসিন একটি নতুন আন্দোলনের ডাক দেন যা “মুরাবিতুন” (ইংরেজিতে Almoravids) নামে পরিচিত ছিল। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল সঠিক ইসলাম পালনে কঠোর হওয়া এবং ইসলাম-বহির্ভুত চর্চা ও আইনসমূহ নির্মুল করা। আন্দোলনের শ্লোগান ছিল “ভাল কাজে উৎসাহ প্রদান, খারাপ কাজ বর্জন, এবং ইসলাম-বহির্ভুত কর বাতিলকরণ”। উত্তর আফ্রিকার বারবার জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী এবং সাহসী সামরিক ঐতিহ্যের কারণে তখনকার তাইফা রাজাগণ আশা করছিলেন মুরাবিতুনরা আল-আন্দালুসে এসে খ্রিস্টানদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিবে। যেমন- ইতিমধ্যে টলেডো এর তাইফা দখল করে ক্যাস্টিলে-র রাজা ৬ষ্ঠ অ্যালফোন্সো ১০৯১ খ্রিস্টাব্দে সেভিল এর তাইফাও প্রায় দখল করে ফেলছিল। এরকম ভয়ানক পরিস্থিতি হওয়ার পরই তাইফা রাজাগণ একাদশ শতাব্দীর শেষভাগে মুরাবিতন আন্দোলনের নেতা ইউসুফ বিন তাশফিনকে আহবান জানান স্পেনে এসে স্পেনের মুসলিমদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে।

তাইফা যুগে আল-আন্দালুসের নোংরা রাজনীতির কথা মাথায় রেখে ইউসুফ বিন তাশফিন সংকল্প করেন যে তিনি শুধুমাত্র ৬ষ্ঠ অ্যালফোন্সোকে পরাজিত করেই আফ্রিকায় ফিরে যাবেন। কাজটি তিনি সম্পন্ন করলেও, তা যথেষ্ট ছিলনা। কারণ এরপরও বারবার আল-আন্দালুসকে খ্রিস্টানদের হাত থেকে রক্ষা করতে ইউসুফ বিন তাশফিনের প্রতি ডাক আসতে থাকে। তাই ইমাম গাজ্জালীসহ অনেক মুসলিম স্কলার ইউসুফ বিন তাশফিনকে অনুরোধ করেন অকার্যকর তাইফা রাজাদের উৎখাত করে আল-আন্দালুসকে মুরাবিতুনদের রাজ্যের সাথে যোগ করে ফেলতে। কাজটি তিনি একাদশ শতাব্দীর শেষ দশকেই সম্পন্ন করেন, সব তাইফা রাজ্যকে একীভূত করে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাইফা যুগে খ্রিস্টানদের হাতে চলে যাওয়া তাইফাগুলো মুরাবিতুনরা আর পুনরুদ্ধার করতে না পারলেও, এটি দক্ষিণ দিকে খ্রিস্টানদের অগ্রযাত্রার গতি মন্থর করে দিয়েছিল। একারণে এরপরও খ্রিস্টানদের প্রায় ৪০০ বছর লেগে যায় আল-আন্দালুসের মুসলিমদের সম্পূর্ণ পরাজয় করতে।

অনুবাদ করা হয়েছেঃ Disunity in Al-Andalus: the Taifa Period আর্টিকেল থেকে।
অনুবাদকঃ সাদাত ইফতেখার

Footnotes:

১ – Muslim Spain and Portugal: A Political History of al-Andalus, pg.134

Bibliography – গ্রন্থপঞ্জিঃ

Hourani, Albert Habib. A History Of The Arab Peoples. New York: Mjf Books, 1997. Print.

Kennedy, Hugh. Muslim Spain and Portugal: A Political History of Al-Andalus. New York: Addison Wesley Longman , 1996. Print.

Ochsenwald, William, and Sydney Fisher. The Middle East: A History. 6th. New York: McGraw-Hill, 2003. Print.

Advertisements

About ইসলামের হারানো ইতিহাস

An Islamic history website in Bengali language which is basically the Bengali translation of the “Lost Islamic History” website (lostislamichistory.com) and Facebook page (fb.com/LostIslamicHistory).
This entry was posted in আফ্রিকার ইতিহাস, আল-আন্দালুস (মুসলিম স্পেন), নির্বাচিত and tagged , , , , , , , , , , , , . Bookmark the permalink.

4 Responses to আল-আন্দালুসে অনৈক্য – “তাইফা যুগ”

  1. Mahmudur Rahman বলেছেন:

    এই ইতিহাস গুলো জানতে যদি কোন ভালো ইতিহাস বইয়ের বললে উপকৃত হতাম

    Like

    • lostislamichistory.bangla বলেছেন:

      বই তো অনেক আছে। তবে বাংলায় খুব কম। এজন্যই আমাদের এই ওয়েবসাইট। আপাতত আমাদের ওয়েবসাইট এর আর্টিকেলগুলো দেখুন, এরপর হয়তো আমরা বই অনুবাদে হাত দিব। 🙂

      Like

  2. Chaudhury Atiqur Rahman বলেছেন:

    Read Muslim Baigyanider Etihas of Talim Prakashani & Prachay Theke Paschatya of Lekha Prakashani in Kolkata, College Street.

    Liked by 1 person

পোস্টটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্যঃ

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s